Skip to content
দুর্গাপূজা ২০২৬
2026-10-05·পোস্ট

ভাইদুজ ২০২৬: তারিখ, ভাইফোঁটা, ইতিহাস, রীতি ও ভারতের উদযাপন

ভাইদুজ ২০২৬ কবে?

দীপাবলির উৎসবপর্বের অন্যতম অন্তরঙ্গ উৎসব হলো ভাইদুজ অন্যতম অন্তরঙ্গ — এটি ভাই ও বোনের সম্পর্কের উৎসব। ভারতের বেশিরভাগ অঞ্চলে এর নাম ভাইদুজ, তবে অঞ্চলভেদে নাম ও রীতি বদলে যায় — বাংলায় ভাইফোঁটা বা ভাইফোঁটা, মহারাষ্ট্র ও গোয়ায় ভাউবীজ, নেপালে ভাই টিকা, আর পঞ্জিকায় যমদ্বিতীয়া।

২০২৬ সালে ভাইদুজ পালিত হবে বুধবার, ১১ নভেম্বর। উৎসবটি পালিত হয় কার্তিক শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে — অর্থাৎ কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে।

পরিবারের কাছে এই দিনটি বড় কোনও জনসমাগমের উৎসব নয়, বরং একান্ত পারিবারিক ঐতিহ্যের দিন: বোন ভাইকে স্বাগত জানান, তাঁর কপালে ফোঁটা বা তিলক দেন, তাঁর কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করেন এবং একসঙ্গে একসঙ্গে বিশেষ খাবার খান।

কলকাতার জন্য ২০২৬ সালের প্রচলিত পঞ্জিকা হিসাবে ভাইদুজের তিলক দেওয়ার আচার বিকেলের দিকে পড়ে। দৃক পঞ্জিকা অনুসারে কলকাতার অপরাহ্ণের সময় দুপুর ১২টা ২৭ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৪১ মিনিট। স্থানভেদে সময় আলাদা হতে পারে, তাই নির্দিষ্ট পঞ্জিকা অনুসরণ করলে স্থানীয় সময়ই অনুসরণ করুন।

এক নজরে ভাইদুজ ২০২৬

  • তারিখ: বুধবার, ১১ নভেম্বর ২০২৬
  • তিথি: কার্তিক শুক্ল দ্বিতীয়া
  • প্রচলিত নাম: যমদ্বিতীয়া
  • বাংলা: ভাইফোঁটা / ভাইফোঁটা
  • মহারাষ্ট্র ও গোয়া: ভাউবীজ
  • নেপাল: ভাই টিকা
  • প্রধান রীতি: বোন তিলক বা ফোঁটা দিয়ে ভাইয়ের কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করেন
  • পারিবারিক ঐতিহ্য: উৎসবের খাবারদাবার, মিষ্টি, উপহার এবং একসঙ্গে সময় কাটানো

ভাইদুজ কী?

দুজ শব্দটি দ্বিতীয় চন্দ্রতিথিকে বোঝায়, আর ভাইদুজ মানে এই দ্বিতীয় তিথিতে ভাইয়ের জন্য অনুষ্ঠিত উৎসব।

এর মূল ভাবনাটি সহজ: বোন তাঁর ভাইয়ের দীর্ঘায়ু, সুস্থতা ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন, আর ভাই তাঁর ভালোবাসা ও সম্পর্কের প্রতিশ্রুতির প্রকাশ করেন।

কোন রীতি পালন করা হবে, তা অঞ্চল ও পরিবারভেদে যথেষ্ট বদলে যায়। কোনও পরিবার ব্রত পালন করে, কোনও পরিবার বিস্তারিত পূজা করে, কোনও পরিবার তিলকে একাধিক রং ব্যবহার করে, আবার আবার কোনও পরিবার নিজেদের পারিবারিক বা সম্প্রদায়গত প্রথা মেনে চলে।

এই আঞ্চলিক বৈচিত্র্যই ভাইদুজের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক। উৎসবের মূল বিষয়টি এক, কিন্তু ভারতের সব পরিবারে একই রীতি অনুসরণ করা হয় না।

ভাইদুজকে যমদ্বিতীয়া বলা হয় কেন?

ভাইদুজের সঙ্গে যুক্ত সবচেয়ে পুরোনো ও বহুল প্রচলিত কাহিনিগুলোর একটি যম এবং তাঁর বোন যমুনাকে নিয়ে।

প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী যমুনা বারবার তাঁর ভাই যমকে নিজের কাছে আসতে বলেছিলেন। তিনি অবশেষে সেই আমন্ত্রণে এলে তিনি তাঁকে স্নেহ ও আপ্যায়ন করে স্বাগত জানান, প্রচলিত আচার পালন করেন এবং খাবার পরিবেশন করেন।

বোনের সেই ভালোবাসা ও ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে যম তাঁকে একটি বর দেন। বিশ্বাস করা হয়, দ্বিতীয়া তিথিতে বোনের আশীর্বাদ পাওয়া ভাই যমের হাত থেকে সুরক্ষা পান এবং দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ জীবন লাভ করেন।

এই কাহিনির কারণেই উৎসবের প্রচলিত নাম যমদ্বিতীয়া।

এই কাহিনিই বোনের কাছে গিয়ে দেখা, তাঁর আশীর্বাদ নেওয়া এবং একসাথে খাওয়া — এই তিনটিকে এত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

ভাইদুজের আরেকটি কাহিনি: কৃষ্ণ ও সুভদ্রা

আরেকটি জনপ্রিয় কিংবদন্তি উৎসবটিকে ভগবান কৃষ্ণ ও তাঁর বোন সুভদ্রার সঙ্গে যুক্ত করে।

এই মতে, অসুর নরকাসুরকে পরাস্ত করার পর কৃষ্ণ নিজের ঘরে ফিরে আসেন। সুভদ্রা তাঁর ভাইকে আরতি দিয়ে স্বাগত জানান, তিলক দেন এবং স্নেহভরে খাবার পরিবেশন করেন।

এই কাহিনিটি প্রায়ই বোনের ভাইকে স্বাগত জানিয়ে তাঁর কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করার প্রথার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

যম-যমুনা আর কৃষ্ণ-সুভদ্রার কাহিনি দুটি আলাদা ঐতিহ্য, কিন্তু দুটিতেই একই মূল বিষয়টি এগিয়ে আসে: ভাই-বোনের ভালোবাসা, সুরক্ষা ও আবেগের বন্ধন।

ভাইদুজের রীতি: উৎসবটি কীভাবে পালন করা হয়?

সম্প্রদায় ভেদে প্রথা বদলালেও একটি সাধারণ ভাইদুজ উৎসবে নিচের রীতিগুলোর কয়েকটি থাকে। আরতি, তিলক ও ব্রতের রীতি কীভাবে পালন করা হয়, তা আমাদের দুর্গাপূজার রীতি গাইডে বিস্তারিত আছে।

১. বোন পুজোর প্রস্তুতি নেন

আচারের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে বোন একটি পূজার থালা সাজান। পরিবারের প্রথা অনুযায়ী এতে চাল, চন্দন, কুমকুম, মিষ্টি, ফুল, প্রদীপ ও অন্যান্য পূজার সামগ্রী থাকতে পারে।

২. ভাইকে স্বাগত

ভাই বোনের বাড়িতে আসেন, অথবা কোনো পরিবারে বোনই ভাইয়ের কাছে যান। এই মিলনটিই উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৩. তিলক বা ফোঁটা দেওয়া হয়

বোন তাঁর ভাইয়ের কপালে একটি ফোঁটা দেন।

এর সুনির্দিষ্ট রূপ অঞ্চলভেদে বদলায়। এটি সাধারণ তিলক হতে পারে, চন্দনের চিহ্ন হতে পারে, বহুরঙা টিকা হতে পারে, অথবা বাংলার বিশেষ ফোঁটা হতে পারে।

৪. প্রার্থনা করা হয়

বোন তাঁর ভাইয়ের স্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন।

৫. আরতি ও আশীর্বাদ

অনেক পরিবার এই আচারের অংশ হিসেবে আরতি করেন। এরপর ভাইও বোনকে উপহার দেন এবং তাঁর মঙ্গল কামনা করেন।

৬. মিষ্টি ও উৎসবের খাবারদাবার

ভাইদুজে খাবার কেন্দ্রীয়। বোন প্রায়ই ভাইয়ের প্রিয় খাবার তৈরি বা পরিবেশন করেন, এরপর থাকে মিষ্টি ও অন্যান্য উৎসবের খাবারদাবার।

৭. উপহার আদান-প্রদান

পোশাক, টাকা, মিষ্টি ও ব্যক্তিগত উপহার সাধারণত আদান-প্রদান করা হয়। আজকাল উপহার হতে পারে ঐতিহ্যবাহী পোশাক থেকে শুরু করে বই, ইলেকট্রনিক্স বা হাতে লেখা একটি চিরকুট — যেকোনো কিছুই হতে পারে।

উপহারের দাম নয়, তার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত ভালোবাসাটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ভাইফোঁটা ২০২৬: বাংলায় ভাইদুজ

পশ্চিমবঙ্গে ভাইদুজকে সাধারণভাবে ভাইফোঁটা বা ভাইফোঁটা বলা হয়।

বাঙালির কাছে এই উৎসবের নিজস্ব রীতি ও পরিভাষা রয়েছে। সাধারণ তিলকের বদলে কেন্দ্রীয় রীতিটির নাম ফোঁটা।

প্রচলিতভাবে বোনেরা আচারের আগে ব্রত পালন করেন এবং ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেন। কোন পরিবারে কী উপকরণ ব্যবহৃত হবে, তা আলাদা, তবে চন্দন, কাজল ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী উপকরণ এই রীতির সঙ্গে যুক্ত।

ঐতিহ্যবাহী বাঙালি ভাইফোঁটায় প্রায়ই একটি ছন্দবদ্ধ আশীর্বাদ বা মন্ত্র থাকে, এরপর আসে মিষ্টি এবং জমজমাট পারিবারিক খাওয়াদাওয়া।

অনেক বাঙালি পরিবারের কাছে এই আচার ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবারকে একত্রে মিলিত হওয়ার একটি বিশেষ উপলক্ষ।

ভাইদুজ ও ভাইফোঁটার মধ্যে পার্থক্য কী?

উৎসবের মূল উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই।

ভাইদুজ হলো সর্বাধিক প্রচলিত নাম, আর ভাইফোঁটা / ভাইফোঁটা হলো এই উৎসবের বাঙালি রূপ।

রীতি, খাবার, মন্ত্র ও প্রথা ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দুটিই কার্তিক শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে ভাই ও বোনের সম্পর্ককে উদযাপন করে।

মহারাষ্ট্র ও গোয়ায় ভাইদুজ: ভাউবীজ

মহারাষ্ট্র ও গোয়ায় ভাইদুজকে সাধারণভাবে ভাউবীজ বা ভাউবীজ বলা হয়।

প্রচলিতভাবে বোন তাঁর ভাইকে বিশেষ খাবারে ডাকেন এবং আচারী তিলক দেন। একটি বিশেষ প্রথা হলো করীথ — নরকাসুরের কাহিনির সঙ্গে যুক্ত একটি তেতো ফল।

এরপর হয় উৎসবের খাওয়াদাওয়া, যেখানে খাবারের পছন্দ পরিবারভেদে বদলে যায়।

তাই ভাউবীজে চেনা ভাই-বোনের রীতির সঙ্গে মহারাষ্ট্র ও গোয়ার নিজস্ব প্রথা মিশে গেছে।

গুজরাতে ভাইদুজ

গুজরাতে এই উৎসবকে সাধারণভাবে ভাইবিজ বলা হয়।

মূল প্রথাটি পরিচিত: বোনেরা তাঁদের ভাইকে স্বাগত জানান, তিলকের আচার সম্পন্ন করেন, তাঁদের কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করেন এবং একসাথে খাবার ভাগ করে নেন।

এই এই অঞ্চলে এটি দীপাবলির উৎসব-পর্বের শেষের দিকের সঙ্গেও যুক্ত।

বিহার ও ঝাড়খণ্ডে ভাইদুজ

বিহার ও ঝাড়খণ্ডের কিছু সম্প্রদায় যমদ্বিতীয়া-র সঙ্গে যুক্ত বিশেষ প্রথা পালন করে।

একটি অস্বাভাবিক রীতিতে বোনেরা প্রায়শই ভাইকে সাময়িকভাবে দোষ দেন বা তিরস্কার করেন, এরপর একটি প্রায়শ্চিত্তের আচার পালন করেন। এই প্রথা যমের হাত থেকে ভাইকে সুরক্ষিত রাখার বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত।

সম্প্রদায় ও পরিবারভেদে এই অনুষ্ঠান বেশ ভিন্ন হতে পারে, তাই এগুলোকে ভাইদুজের সর্বজনীন রীতি নয়, বরং আঞ্চলিক লোকাচার হিসেবে বোঝা উচিত।

নেপালে ভাই টিকা

নেপাল জুড়ে এই উৎসব ভাই টিকা নামে পরিচিত এবং এটি আলোর উৎসব তিহার-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আচারটি বিশেষভাবে বিস্তারিত। বোনেরা তাঁদের ভাইয়ের কপালে বহুরঙা টিকা দেন এবং মালা ও ঐতিহ্যবাহী উপহার দেন।

টিকায় একাধিক রঙের ব্যবহার ভাই টিকার সবচেয়ে চেনা বৈশিষ্ট্য।

উৎসবের মূল বার্তাও একই: বোন তাঁর ভাইয়ের সুরক্ষা ও কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করেন, আর ভাই তাঁর ভালোবাসা ও প্রতিশ্রুতির প্রকাশ করেন।

ভারতজুড়ে ভাইদুজ: এক উৎসব, অনেক রীতি

অঞ্চলপ্রচলিত নামবিশেষ রীতি
পশ্চিমবঙ্গভাইফোঁটা / ভাইফোঁটাফোঁটার আচার, ব্রত, বাঙালি আশীর্বাদ ও ভোজন
মহারাষ্ট্রভাউবীজতিলক, করীথের প্রথা ও পারিবারিক ভোজন
গোয়াভাউবীজভাউবীজ আচারের আঞ্চলিক রূপ
গুজরাতভাইবিজতিলক, প্রার্থনা, ভোজন ও পারিবারিক মিলন ও খাওয়াদাওয়া
বিহারযমদ্বিতীয়া / ভাইদুজযমের সঙ্গে যুক্ত বিশেষ লোকাচার
ঝাড়খণ্ডভাইদুজ / যমদ্বিতীয়াযম-সংক্রান্ত আঞ্চলিক প্রথা
উত্তর ভারতভাইদুজ / ভাইয়া দুজতিলক, আরতি, খাবার ও উপহার
নেপালভাই টিকাবহুরঙা টিকা, ফুল ও বিস্তারিত পুজো

নাম ও প্রথা বদলায়, কিন্তু উৎসবের আবেগের কেন্দ্র এক আশ্চর্য মাত্রায় একই থাকে।

ভাইদুজের ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট

ভাইদুজ দীপাবলি উৎসবের আশপাশের বিস্তৃত সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের একটি অংশ।

এটি পড়ে কার্তিক শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে, এবং অনেক প্রথায় দীপাবলির পাঁচদিনের উৎসব-ধারাবাহিকের শেষে পালিত হয়।

যেসব উৎসব কেন্দ্রীভূত একটি মন্দির, দেবতা বা জনসাধারণ মিছিলকে ঘিরে, ভাইদুজ তেমন নয় — এটি মূলত একটি পারিবারিক উৎসব।

ধর্মীয় কাহিনি, আঞ্চলিক রীতি ও পারিবারিক অভ্যাসের মধ্য দিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এর রীতি তৈরি হয়েছে। তাই ভাইদুজের কোনো একক সর্বজনীন আচার নেই।

ভাইদুজ, ভাইফোঁটা, ভাউবীজ, ভাই টিকা ও অন্যান্য নামের মধ্যে পার্থক্য — সেটি ভারতীয় উপমহাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকেই প্রতিফলিত করে।

ভাইদুজের তিলকের অর্থ কী?

তিলক বা ফোঁটা কেবল একটি সাজসজ্জার চিহ্ন নয়।

ঐতিহ্যবাহী আচারে এটি বোনের প্রার্থনা ও ভাইয়ের প্রতি আশীর্বাদের প্রতীক।

উপকরণ অঞ্চল ও পরিবারভেদে বদলায়। কোনো প্রথা চন্দন, কুমকুম বা চাল ব্যবহার করে, আবার বাঙালি ভাইফোঁটার নিজস্ব প্রচলিত মিশ্রণ ও আচার আছে।

তাই এই আচারটি ধর্মীয় প্রতীক ও পারিবারিক সম্পর্ক — দুটোকেই একসঙ্গে ধারণ করে।

ভাইদুজে খাবারের গুরুত্ব কী?

একটি উৎসবে খাবার গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মূলত ভাইদুজ পরিবারের পুনর্মিলনের উৎসব।

প্রচলিতভাবে বোন তাঁর ভাইয়ের জন্য খাবার তৈরি বা পরিবেশন করেন, অনেক সময় ব্যক্তিগত বা আঞ্চলিক গুরুত্বের খাবার বেছে নেন।

ভারতের বিভিন্ন অংশে মেনু সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। বাঙালি পরিবার বিশাল বাঙালি ভোজন পরিবেশন করতে পারে, আর মহারাষ্ট্রে নিজস্ব উৎসবের খাবারদাবার ও মিষ্টি আছে।

এই খাবারের সঙ্গে আচারটি ছোট একটি আয়োজন থেকে বড় পারিবারিক সমাবেশে পরিণত হয় — আড্ডা, স্মৃতি ও একসঙ্গে কাটানো সময়ের সঙ্গে।

ভাইদুজ ও আধুনিক পরিবার

ভাইদুজের প্রচলিত ছবিটি হলো ভাই বোনের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছানো।

আধুনিক পরিবারগুলো সবসময় একই শহরে, এমনকি একই দেশেও থাকে না।

তাই উৎসবটির রীতিও সময়ের সঙ্গে বদলেছে। দূরে থাকা ভাই-বোনরা ভিডিও কলে আচারটি সম্পন্ন করতে পারেন, অনলাইনে উপহার পাঠাতে পারেন, বা সাক্ষাতের সময় হলে পারিবারিক ভোজনের আয়োজন করতে পারেন।

রূপ বদলালেও মূল ভাবনাটি অপরিবর্তিত: ভাই-বোনের জন্য সময় রাখুন এবং সেই সম্পর্কটি উদযাপন করুন।

ভাইদুজ কি রক্ষাবন্ধনের সমান?

নয়। দুই উৎসবেই ভাই-বোনের সম্পর্ক উদযাপিত হয়, কিন্তু এরা আলাদা দুটি উৎসব।

রক্ষাকালঞ্জন পালিত হয় শ্রাবণ মাসে এবং এর কেন্দ্রে থাকে রাখি বাঁধা।

ভাইদুজ পড়ে কার্তিক শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে, দীপাবলির সময়ে, এবং এর কেন্দ্রে থাকে বোনের তিলক বা ফোঁটা, প্রার্থনা এবং একসঙ্গে ভাগ করে খাওয়া।

তাই দুটির আবেগের মূল ভাবনা এক হলেও তারিখ, রীতি ও ধর্মীয় আচার আলাদা।

ভাইদুজ ২০২৬: প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ভাইদুজ ২০২৬ কবে?

ভাইদুজ ২০২৬ পড়ে বুধবার, ১১ নভেম্বর ২০২৬।

ভাইফোঁটা ২০২৬ কবে?

ভাইফোঁটা ২০২৬ পড়ে বুধবার, ১১ নভেম্বর — ভাইদুজের একই দিন। ভাইফোঁটা হলো উৎসবটির বাঙালি নাম।

ভাই ফন্টা কী?

ভাই ফন্টা বাঙালি ভাইফোঁটা / ভাইফোঁটা প্রথার আরেকটি বানান। বাংলায় উৎসবটি সাধারণভাবে ভাইফোঁটা লেখা হয়।

ভাইদুজকে কি যমদ্বিতীয়াও বলা হয়?

হ্যাঁ। ভাইদুজ ঐতিহ্যবাহীভাবে যমদ্বিতীয়া-র সঙ্গে যুক্ত, যা যম ও যমুনার কাহিনির সঙ্গে যুক্ত দ্বিতীয় চন্দ্রতিথিকে বোঝায়।

ভাইদুজে বোনেরা কী করেন?

অঞ্চল ও পরিবারের প্রথা অনুযায়ী বোনেরা পুজোর প্রস্তুতি নেন, ভাইকে স্বাগত জানান, তিলক বা ফোঁটা দেন, প্রার্থনা বা আরতি করেন, মিষ্টি ও খাবার পরিবেশন করেন এবং তাঁদের ভাইয়ের দীর্ঘায়ু ও কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করেন।

ভাইদুজে ভাইরা বোনকে কী দেন?

ভাইরা প্রচলিতভাবে ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে বোনকে উপহার দেন। এর মধ্যে টাকা, পোশাক, মিষ্টি বা ব্যক্তিগত উপহার থাকতে পারে।

ভাইদুজ কি সরকারি ছুটি?

ভারতজুড়ে ভাইদুজ উদযাপিত হয়, তবে এর সরকারি ছুটির স্বীকৃতি রাজ্য ও নিয়োগকর্তার উপর নির্ভর করে। এটি সারা ভারতে বাধ্যতামূলক সরকারি ছুটি নয়; রাজ্য বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ঐচ্ছিক বা সীমিত ছুটি হতে পারে।

ভাইদুজ ২০২৬: শুধু একটি উৎসব নয়

বাংলায় ভাইফোঁটা থেকে মহারাষ্ট্রে ভাউবীজ, নেপালে ভাই টিকা এবং পঞ্জিকায় যমদ্বিতীয়া — ভাইদুজ অনেক রূপে আসে।

উপকরণ বদলায়। খাবার বদলায়। ভাষা বদলায়। এমনকি আচারও বদলায়।

তবু বার্তাটি আশ্চর্য মাত্রায় সহজ: একজন ভাই আর একজন বোন তাঁদের মধ্যের বন্ধনকে উদযাপন করতে একটু সময় নেন।

দীপাবলির উৎসবপর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাইদুজ একটি গভীর ব্যক্তিগত সমাপ্তি দেয় — বড় কোনও জনসমাগমের উৎসবের মধ্যে নয়, বরং পরিবার, আশীর্বাদ, খাবার এবং একে অপরের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতির মধ্যে।

পুজোর গান

Loading playlist…